October 22, 2021, 10:49 pm

হাবিপ্রবিতে ছাত্রী হল নির্মাণের ৫ মাসের প্রকল্পেই ২১ মাস পার!

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ছাত্রী হলের প্রকল্পের কাজ ৫ মাস ২ দিন ধরা হলেও ২১ মাস অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এম/এস.এমবি এলএস-জেভি।

এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকির অভাব এবং অদক্ষ জনবল আর স্বল্প পরিমাণে শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি হচ্ছে না এবং বিভিন্ন মেয়াদে কয়েক ধাপ সময় বৃদ্ধি করেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল শাখা থেকে জানা যায়, হলটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে কাজ পায় এম/এস.এমবি এলএস-জেভি নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটি শেষ করতে তাদের ৫ মাস ২ দিন সময় বেধে দেয়া হয়। কিন্তু ২১ মাস অতিবাহিত হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকল্পের মেয়াদের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০১৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় অতিরিক্ত প্রথম মেয়াদে ২০২০ জানুয়ারি থেকে ২০২১ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়। চলতি বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারবেনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য আবার দ্বিতীয় মেয়াদে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এতে নির্ধারিত নির্মাণ প্রকল্পের সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ২ বছর সময় নিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। অতিরিক্ত ২ বছর সময়বৃদ্ধির পরও নিদিষ্ট সময়ে ছাত্রী হলের নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ করছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২১ কোটি ৭১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৮ শত পয়ষট্টি টাকা ব্যয়ে ৭২০ আসন বিশিষ্ট ৬ তলা ছাত্রী হলের নির্মাণ প্রকল্পের অনেক কাজ বাকী রয়েছে। যে পরিমাণ শ্রমিক দরকার তার বিপরীতে হাতেগোনা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে চলছে প্রকল্পটির কাজ।

এদিকে প্রকল্পের শ্রমিকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এভাবে কাজ চললে নির্মাণাধীন ছাত্রী হলের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে আরও দেড় বছর সময় লাগবে। তবে বেশি শ্রমিক দিয়ে কাজ করালে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

এব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মোবারক হোসেন বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ বছরের ডিসেম্বরের আগেই আমাদের কাজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিতে পারবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করতে আসে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলেও এখন পর্যন্ত নির্ধারিত বাজেটের অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়নি।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শাখা থেকে জানায়, কাজের ধীরগতির জন্য বেশকয়েকটি কারণ রয়েছে। হলটির মূল প্রকল্পের বাইরে কিছু কাজ করতে হবে। সে জন্য ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।

এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্ব প্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, করোনার কারণে অনেক সময় নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিলো। প্রকল্পটির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণাধীন ছাত্রী হলের কাজ শেষ হবে।

উল্লেখ, ৭২০টি আসন বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ছাত্রী হলে ক্যান্টিন-ডাইনিং, রিডিংরুম সহ লিফটের সু-ব্যবস্থা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


লাইক দিন
%d bloggers like this: