October 23, 2021, 2:09 pm

সিলেটে ভূমিকম্প, বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা

নদী টিভি ডেস্ক:

সিলেটে ছয় দফার ভূমিকম্পের পর নগরী জুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।  শনিবার সাড়ে চার ঘন্টার ব্যবধানে ৫ বারের পর রবিবার ভোররাত ৪ টায় ষষ্ঠ দফা ভুমিকম্প অনুভূত হয়। এতে নগরীতে মানুষ হয়ে পড়ছে আতঙ্কিত। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে  ৬ বার ভূমিকম্প অনুভূত অনেকে তা ৮ বার বলছেন। আবহাওয়া অফিস বলছে, ২ সাত্রার নিচে ভূমিকম্প অনুভূত হলে তা ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে সিলেট রয়েছে। এতো কম সময়ে এতোবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। আগামী ৭দিন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ভূমিকম্পের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় পাঁচবার ভূমিকম্পে সিলেট জুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।  এত কম সময়ের মধ্যে কয়েক দফা ভূ-কম্পন সহজভাবে নেয়ার বিষয় নয়। তাই আগামী সাতদিন নগরবাসীকে সচেতন থাকার আহবান জানান সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পূরকৌশল বিভাগের বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়া অফিস বলছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত পাঁচবার কম্পন অনুভূত হয়েছে।  রোববার ভোর ৪টায় ষষ্ঠ বারের মতো ভূমিকম্প অনুভুত হয়।  তার মাত্রা কম থাকায় তেমন অনুভূত হয়নি। শনিবার সকাল ১০টা ৩৭ মিনিটে প্রথমে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয় সিলেটে।  এরপর সকাল ১০টা ৫২, ১১টা ৩০ মিনিট, ১১ টা ৩৪ মিনিট ও সর্বশেষ ১টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্প হয়।  এসব ভূকম্পনের মধ্যে প্রথমবার ভূমিকম্প ৫০ সেকেন্ড, দ্বিতীয় বার ৫৩ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সর্বশেষ বড় ঝাঁকুনি অনুভূত হয় বেলা ১টা ৫৮ মিনিটে ।  ঘন ঘন এমন ঝাঁকুনিতে বিশেষ করে নগরীর উঁচু ভবনে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সিলেট আবহাওয়া অফিস বলছে, ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ১৩ কিলোমিটার। তাই এর আয়তন ছিল সীমিত।  তাই শহরের আশপাশের মানুষজন এই ভূমিকম্পের তেমন টের পাননি।

তবে আবহাওয়া অফিস ছয়বার ভূমিকম্পের কথা বললেও সাধারণ মানুষের দাবি তারা অন্তত ৮ বার এই কম্পন অনুভব করেছেন।  সাধারণ মানুষের এই দাবির প্রেক্ষিতে আবহাওয়া অফিস বলছে, রিখটার স্কেলে ২ মাত্রার কম কম্পন অনুভূত হলে সেটাকে ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড করা হয় না। শনিবারের পাঁচটি ভূমিকম্পের মধ্যে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১।  বাকিগুলোর মাত্রা ছিল কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন- সিলেট একদিকে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ‘ডাউকি ফল্ট’ থেকে মাত্র ২শ’ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে ‘শাহবাজপুর ফল্ট’ও কাছাকাছি। যে কারণে সিলেটের জন্য ভূমিকম্পের ঝুঁকি খুব বেশি। ফলে এখানে ৬ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে এ আশঙ্কা আরও বাড়ছে।

সিলেটের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, এ অঞ্চলে সাধারণত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ও মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে ভূকম্পন হয়ে থাকে।  তবে ১৯১৮ সালে উৎপত্তিস্থল হিসেবে সিলেট অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। এছাড়া ডাউকি ফল্ট হচ্ছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব কোণের সিলেট অঞ্চলে। কিন্তু এ ফল্টের অবস্থান সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে ২৪ কিলোমিটার ছাড়িয়ে ভারতের অভ্যন্তরে।  এজন্য সিলেট অঞ্চল ভূমিকম্প প্রবণ।’

এদিকে আগামী সাতদিন নগরবাসীকে সচেতন থাকার আহবান জানান সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পূরকৌশল বিভাগের বিশেষজ্ঞরা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক জহির বিন আলম জানান, পরপর এতোবার ভূমিকম্প সিলেট অঞ্চলের পাশেই ডাউকি ফল্ট অঞ্চলের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এতকম সময়ের মধ্যে কয়েক দফা ভূ-কম্পন হওয়ায় আগামী সাতদিন নগরবাসীকে সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি।

ছোট ভূমিকম্প আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বড় দূর্যোগের

উত্তরে ‘ডাউকি ফল্ট’, দক্ষিণে ‘শাহবাজপুর ফল্ট’। এ দুই ফল্টের মধ্যখানে থাকা সিলেটের মানুষ এখন মহা আতঙ্কে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের বার্তাবহন করে। আগামী সাত দিন সিলেটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডাউকি ফল্টে রিকটার স্কেলে ৭ মাত্রার উপরে ভূমিকম্প হলে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় শনিবার সিলেট সিটি করপোরেশন আগামী সতর্কতা হিসেবে জরুরি বৈঠক করেছে।  নেয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।

ভূমিকম্পের সময় মানুষ আতঙ্কে বাসা-বাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে নেমে আসেন।  অনেকে বহুতল ভবন ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের একতলা বাসা-বাড়িতে আশ্রয় নেন। ফের বড় রকমের ভূমিকম্পের আশঙ্কায় অনেকে সিলেট শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে পরিবার নিয়ে চলে যান।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর ও পরিবেশ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম জানান, চারঘন্টার ব্যবধানে চার-পাঁচবার ভূমিকম্প হওয়া খুবই খারাপ লক্ষণ। ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস। তাই সিলেটের জন্য আগামী ৭ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে সিলেটে বড় ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সিলেট নগরে নতুন যেসব বহুতল ভবন হয়েছে সেগুলো নিয়ম মেনে হয়েছে। কিন্তু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনগুলো। ডাউকি ফল্ট বা আশপাশ এলাকায় ৬ মাত্রার উপরে ভূমিকম্প হলে সিলেটে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর ৭ বা  এর উপরের মাত্রার হলে সিলেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে আগামী কয়েকদিন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

ভূমিকম্পে হেলে পড়েছে ৬ তলা ভবন

দুদিনে পর পর ছয়বার ভূমিকম্পে সিলেটে হেলে পড়েছে একটি ছয়তলা ভবন। শনিবার নগরীর পাঠানটুলা দর্জিবাড়ী এলাকায় আহাদ টাওয়ার নামে ওই ভবনটি হেলে পড়ে। রোববার সকাল থেকে ভবনের ১১টি ইউনিটের বাসিন্দারা অন্যত্র সরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক)

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ভবনটির নকশা আমার হাতে রয়েছে। ভবনটি যথাযথভাবে নির্মাণ ও অনুমোদন নেওয়ার পর কোনো পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, ভবনটির মালিক থাকেন বাহরাইনে। একজন তত্ত্বাবধায়ক ভবনের দেখাশোনা করেন। ওই ভবনের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ২৫ ভবন

 ভূমিকম্পের ‘ডেঞ্জারজোন’ হিসেবে পরিচিত সিলেটে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবনগুলো। বড় ধরণের ভূমিকম্প হলে এসকল ভবন ভেঙ্গে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানীর আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে নগরীতে এরকম ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করেছে। যার মধ্যে সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ভবনও রয়েছে। ২০১৯ সালে সার্ভে করে নগরীর ২৩টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর বাইরে শনিবার ভূমিকম্পে হেলে পড়া আরো দুটি ভবনকে নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
২০১৯ সালে নগরীর ২৩টি বহুতল ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।  ভবনগুলো হচ্ছে- জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উত্তর পাশের কালেক্টরেট ভবন-৩, জেলরোডস্থ সমবায় ব্যাংক ভবন, একই এলাকায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাবেক কার্যালয় ভবন, সুরমা মার্কেট, বন্দরবাজারস্থ সিটি সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজারের মিতালী ম্যানশন, দরগাগেইটের হোটেল আজমীর, বন্দরবাজারের মধুবন সুপার মার্কেট, টিলাগড় কালাশীলের মান্নান ভিউ, শেখঘাট শুভেচ্ছা-২২৬ নম্বর ভবন, যতরপুরের নবপুষ্প ২৬/এ বাসা, চৌকিদেখির ৫১/৩ সরকার ভবন, জিন্দাবাজারের রাজাম্যানশন, পুরানলেনের ৪/এ কিবরিয়া লজ, খারপাড়ার মিতালী-৭৪, মির্জাজাঙ্গাল মেঘনা এ-৩৯/২, পাঠানটুলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বাগবাড়ির একতা ৩৭৭/৭ ওয়ারিছ মঞ্জিল, একই এলাকার একতা ৩৭৭/৮ হোসেইন মঞ্জিল, একতা-৩৭৭/৯ শাহনাজ রিয়াজ ভিলা, বনকলাপাড়া নূরানী-১৪, ধোপাদিঘীর দক্ষিণ পাড়ের পৌরবিপণী মার্কেট ও ধোপাদিঘীরপাড়ের পৌর শপিং সেন্টার।

এর মধ্যে পুরানলেনের ৪/এ কিবরিয়া লজটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়ে মেরামত করা হয়েছে।

ভূমিকম্পে শেভরণকে নিয়ে অপপ্রচার

সিলেটে শনিবার রাত থেকেই ভূমিকম্প নিয়ে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে প্রাকৃতিক ভূমিকম্প না বলে শেভরনের কূপ খননে মাইন বিস্ফোরনের কথা বলছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম।  শেভরনকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিসিক শেভরনের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাচ্ছে বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। শেভরণ এবং সিসিক এই দাবী ভূয়া বলে জানিয়েছেন।

রোববার সকালে শেভরনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা অস্বীকার করে বলে তাদের কোন জরিপ কাজ সিলেটে চলমান নেই এবং মাইন বিস্ফোরনও হয়নি।  শেভরণের কমিউনিকেশন কর্মকর্তা শেখ জাহিদুর রহমান জানান, সিলেটে শেভরণের কোন জরিপ কাজ চলমান নেই। শেভরণ কোন মাইন বিস্ফোরণও ঘটায়নি। ভূকম্পনের সাথে শেভরণের কোন সম্পৃক্ততা নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ভূমিকম্প নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে শেভরণকে নগর ভবনে ডাকা হয়েছে বলে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন তা নিয়ে সিসিক অস্বীকার করা হয়েছে। তারা বলছে এ খবর সম্পূর্ণ ভূয়া।

 

ভূমিকম্প বিপর্যয় রোধে হটলাইন চালু সিসিকের

সিলেটে ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়ার কারণে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) পক্ষ থেকে একটি ‘হটলাইন’ সেবা চালু করা হয়েছে। যার নম্বর ০১৯১১২৪৯৬৯৯।  শনিবার বিকেল ৪ টায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখার সাথে আয়োজিত জরুরী সভা থেকে নগরবাসীকে আতংকিত না হয়ে সচেতন ও দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানানো হয়। এসময় দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সিলেট মহানগরে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে সকল বিভাগ, শাখা ও দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।  এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে ১ দিনে অল্প সময়ে অন্তত ৪ বার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের আশংকা রয়েছে। সে অনুযায়ী সিলেট সিটি কর্পোরেশন দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে এই সভার আয়োজন করে।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকারের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরী ভিত্তিতে সিলেটের সকল প্রশাসন, দপ্তর ও সেবা সংস্থা সমূহে নিজ নিজ কন্ট্রোল রুম খুলতে অনুরোধ জানানো হয়। আগামী ৭ দিনের জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশন সহ সকল জরুরী সেবা সংস্থা সমূহ ও সহযোগী সকল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থায় থাকার অনুরোধ জানানো হয়। বিশেষ করে ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, স্বাস্থ্য সেবা খাত এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সিসিকের ২৭ টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনাতে প্রস্তুতি মূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় হয়। এদিকে সিলেটের সকল সরকারী ও বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকের দুর্যোগকালীন সময়ে চিকিৎসা সেবা দান নিশ্চিতে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া সিসিকের তালিকাভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সমূহ থেকে নাগরিকদের নিরাপদে অবস্থানে থাকার আহবান জানান।

 

ভূমিকম্প নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ছাত্র ইউনিয়নের প্রচারণা

ভূমিকম্পের সময় করনীয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সিলেটে প্রচারণা চালিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদ।  শনিবার রাতে ও রবিবার দুপুরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় এ প্রচারণা চালানো হয়।

শনিবার রাত ৮টা থেকে নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় মাইক দিয়ে এ প্রচারণা চালানো হয়। এসময় ভূমিকম্পের সময় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।

এবিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নাবিল এইচ বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েকদফা ভূমিকম্প সিলেটবাসী অনুভূত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা শঙ্কা জানিয়ে বলেছেন এসব ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের পূর্বাবাস। তবে জনসাধারণের মধ্যে এনিয়ে সচেতনা বৃদ্ধি করতে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রচারণা লক্ষ্য করিনি আমরা। তাই ইতিহাস অর্পিত দায়িত্ব থেকে ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট নগরের সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা চালায়। এসমঢয় আমরা ভূমিকম্পের সময় করনীয় কী তা প্রচার করি। জনসাধারণ যাতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন সেকারণেই আমাদের এই প্রচারণা।

 

ভূমিকম্পে সতর্ক থাকার আহ্বান মেয়র আরিফের

সিলেটে বার বার ভূমিকম্পের ফলে মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।  নগরবাসীকে ভূমিকম্পে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট নগরীতে অন্তত ৪ থেকে ৫ বার ভূমিকম্প হয়েছে। মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে কীভাবে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় করা যায় সেটি নিয়ে ভাবতে হবে।  ভূমিকম্প পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাদেরকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেটি নিয়ে আমরা ভাবছি। এসময় মেয়র নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, সিলেট থেকে মাত্র ২শ’ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী ডাউকি ফল্টের অবস্থান। অন্যদিকে শাহবাজপুর ফল্টও সিলেটের কাছাকাছি।  তাই ভৌগলিক কারণে ভূমিকম্পের ডেঞ্জার জোনে রয়েছে সিলেট।  ইতিহাসের তথ্য বলছে, ১৫৪৮ সালে প্রচন্ড ভূমিকম্পে সিলেট এলাকায় ভূ-আকৃতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ওই সময় উঁচু-নিচু ভূমি পরিণত হয় সমতল ভূমিতে। পরবর্তীতে ১৬৪২, ১৬৬৩, ১৮১২ এবং ১৮৬৯ সালে হওয়া ভূমিকম্পে সিলেটের ভূ-মানচিত্র পাল্টে যায় অনেকটাই।

১৮৯৭ সালের ১২ জুন বিকালে সিলেটে যে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়, সেটি ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থ কোয়াক’ নামে সমধিক পরিচিত। ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৭। ভয়াবহ সেই ভূমিকম্পে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। ওই ভূকম্পই সিলেটজুড়ে বিশালাকারের হাওর, বিল, জলাশয়ের সৃষ্টি করে।  এদিকে, গেল শতাব্দিতে সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই সংঘটিত হয় এই ভূমিকম্প।

সূত্র : সিলেট টিউন ২৪ কম

 

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


লাইক দিন
%d bloggers like this: