October 22, 2021, 3:30 pm

সিলেটে সিটি কর্পোরেশনের ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার:

নগরীর বন্দর বাজারে দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতুটি নিলামে ২০ লাখ টাকা দর হওয়ায় সিসিক বিক্রি করতে পারেনি। এর মধ্যে ৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আরো দুটি সেতু নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন নাগরিকরা বরছেন, রাষ্ট্রের টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

সিলেটে নিমির্ত হচ্ছে আরো ২টি অপ্রয়োজনীয় সেতু (ফুট ওভারব্রীজ)। অপ্রয়োজনীয় সেতু (ফুট ওভারব্রীজ) নির্মাণের ফলে তা জনগণের ব্যবহারের চেয়ে অপরাধীদের বেশি সুবিধা দেয় বলে সচেতন নাগরীকদের অভিমত। এর আগে ২০১৫ সালে নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় একটি সেতু (ফুট ওভারব্রীজ) র্নির্মাণের পর এখনো তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মধ্যখানে বিক্রির চেষ্টা করেও উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় তা বিক্রি করতে পারেনি সিসিক। এমন অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় সেতু (ফুট ওভারব্রীজ) আরো ২টি নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নগরবাসীরা বলছেন, উদ্দেশ্য সেতু (ফুট ওভারব্রীজ) তৈরী নয়, সেতু (ফুট ওভারব্রীজ) তৈরীর আড়ালে রাষ্ট্রীয় টাকা লুটপাটের পায়তারা মাত্র।

সিসিক যে দুটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে তার একটি নগরীর টিলাগড় পয়েন্টে ইতিমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যটি উপশহর পয়েন্টে বা অন্য কোথাও নির্মাণ করা হবে। এ দুটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সরেজমিনে টিলাগড় পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, লোকজন সেতু ব্যবহার না করে তার নিচ দিয়ে চলাচল করছে। সিসিক বলছে, এমসি কলেজ, সরকারী কলেজ খোলা হলে সেতুর ব্যবহার বাড়বে। পাশাপাশি লোকজনকে সেতু ব্যবহারে সচেতন করতে হবে।

২০১৫ সালে সিলেট নগরের বন্দরবাজার এলাকার কোর্ট পয়েন্টে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় সিলেটের প্রথম পদচারী সেতু (ফুট ওভারব্রিজ)। এরপর প্রায় ছয় বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে সেতুটি।  একাধিকবার বিক্রির উদ্যোগ নিয়েও উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় বেঁচতে না পারা এই সেতুটি এখন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) গলার কাঁটা হয়ে আছে।

এ অবস্থায় নগরে আরও দুটি পদচারী-সেতু নির্মাণ করছে সিলেট সিটি করপোরশেন।  প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সেতু দুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।  এরমধ্যে টিলাগড়ে একটি সেতুর কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।  আরকেটির স্থান এখনো চুঢ়ান্ত হয়নি। তবে হুমায়ুন রশীদ চত্বর অথবা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নির্মানের ব্যাপারে আলোচনা চলছে।

নগরের বাসিন্দারা বলছেন, অর্থের লুটপাটের জন্য এসব অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো নগরবাসীর কোনো উপকারে আসবে না। রাষ্ট্রিয় অর্থের অপচয় হবে কেবল।

সিলেট সিটি বরপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিটি মেয়রের আগ্রহে নগরের টিলাগড় পয়েন্টে মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজের পাশে একটি ও উপশহর পয়েন্টে আরেকটি পদচারী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  এরমধ্যে টিলাগড়ের পদচারী সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।  আর অন্য সেতুর কাজ এখনো শুরু হয়নি।  এই দুটি সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

টিলাগড় পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, কোর্ট পয়েন্টের মতো এই সেতুটিও ফাঁকা পড়ে আছে। কেউ ব্যবহার করছে না। সেতুর নিচ দিয়েই পথচারীরা হেঁটে সড়ক পারপার হচ্ছেন।

নগরীর উপশহরের বাসিন্দা বোরহানুর রশীদ আনসারী বলেন, এসব সেতু উপযুক্ত স্থানে না বসিয়ে সিটি কর্পোরেশন অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। টিলাগড় পয়েন্ট থেকে দূরে সেতু করা হয়েছে। ফলে এটি কোন কাজে আসছে না। এ ধরনের সেতুর বেশি প্রয়োজন নগরীর হুমায়ুন রশীদ চত্বরে। কিন্তু সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে না। যেটি উপশহর পয়েন্টে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেটি এখানে নির্মাণ না করে হুমায়ুন রশীদ চত্বরে নির্মাণ করা হোক।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, পুরনো সেতুটি কাজে না লাগালেও নতুন দুটি প্রয়োজনের তাগিদেই নির্মিত হচ্ছে। পদচারী সেতু ব্যবহারে আমাদের আগ্রহ ও সচেতনতা কম।  তবে এগুলো অপ্রয়োজনীয় নয়। মানুষকে সেতু ব্যবহারে সচেতন করতে হবে। টিলাগড় দিয়ে অনেক ট্রাক চলাচল করে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পদচারী সেতু জরুরী।

তবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজ ও সরকারী কলেজ খুললে পদচারী সেতুটির ব্যবহার বাড়বে। শিক্ষার্থীরা সেতু ব্যবহার করে সড়ক পারপার হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিচেনা করেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের নয়, সন্ত্রাসীরাই এই সেতুর মাধ্যমে সুবিধা পাবে বলে মনে করেন সিলেটের নাগরিক সংগঠন সংক্ষুব্দ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম।

তিনি বলেন, টিলাগড় এলাকায় বেশ কয়েকটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে, বিশেষত ক্ষমতাসীন দলের গ্রুপিংয়ের কারণে প্রায়ই মারামারি লেগে যায়।  এখন দেখা যাবে যে গ্রুপ এই সেতু দখল নিতে পারবে তারা মারামারিতে সুবিধা পাবে।  ফলে এটি সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও সংঘাতেই বেশি ব্যবহৃত হবে। এর আগে নগরের কোর্টপয়েন্ট এলাকায় একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে অর্থের অপচয় করা হয়েছে।  এটি নগরবাসীর কোনো কাজে লাগে না।  বরং এই এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে এই সেতু। কারণ কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় সবসময় সভা-সমাবেশ হয়। ওই ফাঁকা সেতুর উপর থেকে যে কেউ এসব সভা-সমাবেশে আক্রমণ করে বসতে পারে।

এর আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আগ্রহে ২০১৫ সালে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরের বন্দর বাজার এলাকার কোর্ট পয়েন্টে নির্মাণ করা হয় সিলেটের প্রথম পদচারী সেতু।  স্থাপনের পর থেকেই এটি অব্যবহৃত থাকায় এটি নিলামে বিক্রি করে দেয়ার উদ্যোগ নেয় সিসিক।  বিক্রির জন্য পর পর দুইবার দরপত্রও আহ্বান করা হয়। কিন্তু নিলামে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় নির্মিত এই সেতুর দাম উঠে মাত্র ২২ লাখ টাকা।

এ প্রেক্ষিতে সেতুটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সিটি কর্পোরেশন।  এরপর সিদ্ধান্ত হয় এটি নগরের দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্বরে সরিয়ে নেয়ার।  তবে সেটিও পরিকল্পনা পর্যায়েই রয়ে গেছে এখনো।  অপ্রয়োজনীয় এই সেতুটি এখন সড়ক সম্প্রসারণ ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের জন্য উপদ্রব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


লাইক দিন
%d bloggers like this: