October 15, 2021, 3:22 pm

এপিঠ-ওপিঠ || তাওহীদুর রহমান শাহ্

 

এটা কোন গল্প নয়
এটা কবিতা ও নয়
(সেটা, যেটা এখনো লেখা হয়নি
কেউ একজন কিছু একটা লিখতে চাচ্ছে)
আবার হতে পারে কবিতা, কোন অভিব্যক্তি
হতে পারে তার ভেতরের কথা অথবা না
যে লেখাটা লেখা হবে,
হয়তো সেখানে থাকবেনা কোন ছন্দ-অলংকার
না থাক। তবু তো কিছু বলা হবে।

চলুন, তবে শুরু করা যাক।

দুই পরিবারে দু’জনের জন্ম,
শুধু পরিবার আলাদা নয়, ভৌগোলিক সীমারেখাও।
এমনকি কতিপয় নিম্নস্তরের  সামাজিক জীবদের মতে, এরা যথাক্রমে নারী এবং পুরুষ
জীব বিজ্ঞানের ভাষায় এদের লিভারের ভরেও তারতম্য আছে,
তা থাক।

এদের চালচলন ভিন্ন
জৈবিক কার্যাবলীতেও প্রাকৃতিক ভাবে আছে ভিন্নতা।

তবে সকলের মধ্যে মত এদেরও আছে জীর্ণ অতীত,
ঝঞ্ঝাটময় বর্তমান এবং স্বাপ্নিক ভবিষ্যৎ।

মানুষ হিসেবে এরা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়।
তাদের ভাবনায় বিস্তর ফারাক আছে,
চাওয়া-পাওয়াতে আছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান।

এসবই স্বাভাবিক ব্যাপার।
মানুষে মানুষে এরূপ বৈপরীত্য থাকেই।

অবশ্য, এত বিরূদ্ধ চালচলনেও কিছুটা মিল পাওয়া যায়,
বিশেষ করে এক জায়গায়- এরা ভালোবাসে,
আশ্চর্যরকম ভাবে একে অন্যকে।
আর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এরা মিল খুঁজে একে অন্যতে।
কাকতালীয়ভাবে কতিপয় বিষয়ে এদের অপূর্ব সাদৃশ্য মিলে,
যেমন এরা যথাক্রমে ফুল, পাখি, আকাশ, নদী ভালবাসে
এমনকি বৃষ্টিও।

তবুও কিছু বৈসাদৃশ্য বর্তমান। যেমন-

একজন চা’য়ে আসক্ত
যত কিঞ্চিৎ কবিও বটে
আনমনা, ছন্নছাড়া, স্পষ্টভাষী
এবং অধিক বাক্যব্যয়ী
এছাড়াও বাস্তববাদী, স্বপ্নালু যারপরনাই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা বলে রাখা প্রয়োজন
সে বেকার।

অপরজন যেন তৃণলতা, আলগোছে স্বভাবের
অভিমানী, বেদনাবিধুর কায়মনোধীকারিনী
স্বল্পভাষী, সাগরের মত বিশাল মানসিকতা যার,
সে ভীষণ আত্ম সমালোচক, আলোকসন্ধানী।
তবে নির্মম সত্য এই, সে গৃহপালিত
অর্থাৎ পিতৃ করুণায় লালিত জীব৷

এহেন বৈপরীত্য থাকলেও
নিম্নরেখ বিষয়াদি তীক্ষ্ণ যুক্তিতে দেখলে
গূঢ়ার্থে পারস্পরিক ভালবাসার সন্ধান মিলে,

যেমন-
ক ঘুমাতে চাইলে খ জেগে থাকে
ক বক্তা হলে খ শ্রোতা,
ক পেটুক হলে খ অর্ধাহারী
ক রোদপ্রিয় হলে খ বৃষ্টিপ্রিয়
ক সাহিত্যপ্রেমী হলে খ নিভৃতচারী
ক ফিরতে দেরি করলে খ অপেক্ষমাণ ছায়ামূর্তি
ক হাঁটতে বের হলে খ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে
ক কাব্যিক হলে খ পাঠক

…..ইত্যাকার অজস্র দৃষ্টান্ত দেয়া যাবে।
থাক, অধিক বাক্যব্যয়ে সংযমী হই
মোক্ষম কথাটুকু বলা চাই
পাঠক বিরক্ত হলে দীর্ঘ আলাপের গুড়ে পড়বে বালি
আসল কথাটা এবার তবে বলি-

মিল-অমিলের মিলন তত্ত্বে যেটুকু সারবত্তা প্রকাশমান
সেই সারাংশ কিংবা সারমর্ম লিখতে বললে
একবাক্যে কি এটুকু লেখা যায় না-  যে

“ভালবাসা এক স্বর্গীয় অনুভূতি; ইহা একটি হালকা প্রজাপতি যা ধরাছোঁয়ার বাইরেই উড়ুক্কু শোভাময়ী। “


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


লাইক দিন
%d bloggers like this: