October 22, 2021, 8:43 pm

চে গুয়েভারা  সম্পর্কে  ।। তাওহীদুর রহমান শাহ ২০ জুন ২০২০         

 ডাক্তার আর্নেস্তো চে গুয়েভারা। এক অমর মহাবীর। আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত, গুয়াতেমালায় প্রশিক্ষিত আর কিউবার মুক্তিসংগ্রামের  সমরনায়ক  যিনি আমৃত্যু লড়েছেন লাতিন আমেরিকাকে ইয়াঙ্কি সাম্রাজ্যবাদ থেকে মুক্ত করে শ্রেণীহীন সমাজে সর্বহারাদের একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করতে।

জন্মের পর পরই যিনি হাঁপানি রোগের সাথে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠেছেন প্রতিনিয়ত, পিতার ইচ্ছা অনুযায়ী ডাক্তারি পাশ করেও তিনি ঠিক করেছিলেন একটা মানুষের সেবা করার চাইতে একটা জাতির সেবা করা অনেক বড় কর্তব্য আর জাতির সেবা করতে ছোট্ট একটা ছুরির চেয়ে বড় একটা তলোয়ার বেশি দরকার। তিনি সেই কাজই করেছিলেন। কিউবাকে মার্কিন ঔপনিবেশবাদের গর্ত থেকে টেনে তুলেই তিনি ক্ষান্ত হননি যদিও বিজয়ী যোদ্ধারূপে চিরদিন আয়েশে কাটিয়ে দিতে পারতেন বাকিটা জীবন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন আর মনোবল তাকে থামতে দেয়নি। হাঁপানি তাকে পঙ্গু করতে পারে নি ,তিনিই হাঁপানিকে পঙ্গু করে রেখেছিলেন। ভাবতেন কতদিন এভাবে পারবেন!

সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি পেয়েছিলেন অগণন সহযোদ্ধা যাঁদের হৃদয়ে  সর্বদা জ্বলত দ্রোহের অনল। বন্ধুর সাথে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন লাতিন আমেরিকার দেশে দেশে, দেখেছেন মানুষের দুঃখ দুর্দশার বাস্তব চিত্র। তাইতো তিনি ব্যক্তিগত জীবনের অনেক ঊর্ধ্বে রেখেছিলেন তার সংগ্রামকে। কর্তব্য তাকে নিয়ে গেছে কর্মক্ষেত্রে এবং স্ত্রী  য়্যালাইদার সহযোগিতা এবং কর্মোদ্যম সাহচর্য তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল পদে পদে।

 

বলিভিয়াকে মুক্ত করতে দলবল নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সেখানে। জঙ্গলে ক্যাম্প করে সংগঠিত করেছিলেন বিপ্লবীদের। কিন্তু জনসংযোগের অসুবিধা এবং বলিভিয়ান কমিউনিস্ট নেতৃত্বের বিশ্বাসঘাতকতায় চে’কে থামতে হয়েছিল। তিনি মারা পড়েছিলেন লড়াই করতে করতে। মাতাল তেরানা তাঁকে অচৈতন্যে খুন করেছিল বন্দিদশায়, বলিভিয়ার সামরিক বাহিনীর ইন্ধনে। সেদিন চে মারা গিয়েও নবজন্ম লাভ করেছিলেন। আজ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বুর্জোয়া আর সাম্রাজ্যবাদীদের সাম্রাজ্যবাদীদের     উত্থানকে রহিত করতে সহস্র চে তৈরি হচ্ছে পৃথিবীর দিকে দিকে।

চে’র মৃত্যু নাই।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


লাইক দিন
%d bloggers like this: