October 23, 2021, 4:58 pm

স্মৃ তি ক থা: তাওহীদুর রহমান শাহ্

এক এক করে জীবনের ত্রয়োবিংশতিতম বসন্ত হয়ে গেল গত
কত উত্থান-পতন, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না
প্রাণান্ত রোমাঞ্চ, একগেয়ে আনন্দের স্বর্গীয় সময়
সব কেমন সিঁড়িপথ সদৃশ ধাপেধাপে উঠে গেল শিকড় থেকে শিখরে!
আমি একটু পিছনে ফিরে যেতে চাই সুপ্রিয় পাঠক
কয়েকটা দুরন্ত বালক উন্মত্ত মেঘ মাথায় রেখে
রোজকার মত চলে যাচ্ছে ফুটবল হাতে
খেলা শুরু হতে বিলম্ব থাকলেও ঝুম বৃষ্টি অবধারিত
কেউ একজন বলে উঠল, ‘মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে’
তাই বলে কি ভয় থেমে থাকে
বৃষ্টিও তো থেমে থাকেনি
প্রবাদবাক্য ভুল প্রমাণিত করতে সেদিন যে ঝড় বয়েছিল
তার তাণ্ডবে গাছের সকল বড়ই বৃন্তচ্যুত হয়েছিল।
আরেকদিন বড়দের একজন বলে উঠল
ছোট কুলা, বড় কুলা পাড় হয়ে ওই কুইগাঙের ওখানে ইয়া বড় সাপ ধরা পড়েছে
আর হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মত তাকে অনুসরণ করতে করতে সোজা গন্তব্যে পৌঁছলাম জনদশেক
সর্পদর্শন না হলেও জীবনের প্রথম শালুক খাওয়া
জরাজীর্ণ, শ্বাপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দেবার সে কী সময়!
মাঠে খেলা চলছে,
তুমুল উত্তেজনা চারপাশে
কেউ একজনের ভেতর উৎকণ্ঠা-
কেন তাকে খেলায় নিচ্ছেনা ছোকড়াদের সর্দারজি?
হাতে বদনা, ছিপ আর কচুপাতায় কতেক জির নিয়ে
ওইতো ছেলেগুলো খালে চ্যাং, উফল, পুঁটি ধরতে যাচ্ছে
বদনার মাছগুলো গুনতে মানা
কাঠফাটা রোদ মাথায় করে তাড়া নিয়ে ফিরছে
হয়তো দুপুরের তরকারির সদাই গুটিকতক মাছ।
৫ টাকা দামের নলি নাটাইয়ে পেঁচিয়ে
সারা সকালজুড়ে বানানো ঘুড়ি নিয়ে জীবনের প্রথম ঘুড়ি আকাশে উড়ছে
চাচাত অত্যুৎসাহী ছোটভাইটি ঘুড়ির টান দেখে
দৌড়ে দোকানে এসে যে পাঁচটাকা দিয়ে আরেকটা সূতা কিনে নিল
সেই টাকাটা দিয়ে তো একটা খাতাও কেনা যেত।
তক্তার ব্যাট আর মারুতি বল কিংবা সুপারস্টার বল
পাড়ার সেরা কয়েকজন মিলে গঠিত পোক্ত দল
একটা লাল টেপ দিয়ে তারিকি খেলা
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই – ২ বলে আটরান লাগে
হয়তো নো-বলে আউট দেওয়া নিয়ে তুমুল বিবাদ
ম্যাচশেষে জয় কিংবা পরাজয়
শেষমেশ সন্ধ্যা নামা।
সিগারেটের মোড়ক, দেশলাইয়ের মোড়ক অথবা
কাঁঠালপাতা দিয়ে চলছে তাসের মত্ততা
মারবেল দিয়ে পাখির শিকারের সফলতা
চালের বস্তার সুতায় চুম্বক বেঁধে লোহা সংগ্রহ
অতঃপর লোহালক্কড় বিক্রি করে কুড়িমত টাকা প্রাপ্তি
এক পট চালের বদলে তিনটে আইসক্রিম কেনা
ঘণ্টা বাজিয়ে যখন হাঁকাচ্ছে চিরচেনা আইসক্রিমওয়ালা
‘হায়রে মজার আইসক্রিম, ফুড়াই গেলে ফাইবায়নি’
মচকে যাওয়া পা ভালো করার জন্য পরদিন মাঠে যাওয়া
প্রতিশোধের ক্ষোভে অন্য কাউকে ল্যাং মেরে বসা
এইসব রোমাঞ্চিত সময় এখন নেই
সেই কাঁদায় গড়াগড়ি করা বিকেল এখন বড়ই কৃপণ
এখন আর কেউ কাঁদামাখা হয়ে সন্ধ্যার মুখোমুখি দাঁড়ায় না
ঘুমাবার আগে যে গোসল সারতো
এখন সেই ঘুম ভাঙতেই গোসল সারে
হারানো দিনগুলো ফিরে আসেনা
যেমন ফিরে আসেনা শেষবার হারিয়ে যাওয়া প্রিয় কোনো মুখ!
ধৈর্যশীল পাঠক প্রিয়তমাসু-
আপনাকে কাঁদাবো বলে লেখিনি
তবুও কাঁদছেন?
কাঁদবেন না।
জানেন কি, আপনিও ধীরেধীরে ফুরিয়ে যাচ্ছেন_
তেল ফুরালেই আপনার নিভে যাওয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “স্মৃ তি ক থা: তাওহীদুর রহমান শাহ্”

  1. Tawhidur Rahman Shah says:

    ❣️

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


লাইক দিন
%d bloggers like this: